রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত কোল ক্ষুদ্র জাতিসত্তা অধ্যুষিত বাবুডাইং গ্রামে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে একটি উঠান বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে বারোটার দিকে গ্রামের একটি বাড়ির উঠানে এই আয়োজন করা হয়, যা প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে। বাবুডাইং আলোর পাঠশালার উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

বৈঠকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী উজ্জামান নূর, সহকারী প্রধান শিক্ষক (প্রাথমিক) লুইশ মুর্মু, সিনিয়র শিক্ষক শিরিনা খাতুন এবং সহকারী শিক্ষক ট্রেম হাসদা উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক হিসেবে কর্মরত আনোয়ার হোসেনও আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। অভিভাবকদের মধ্যে মিলন হাসদা, ফুলরানি মুরমু ও কবিতা টুডু নিজ নিজ মতামত ব্যক্ত করেন।

সভায় আলোচকরা বলেন, শিশুদের নিয়মিতভাবে স্কুলে পাঠালে তাদের জ্ঞানের পরিধি বিস্তৃত হয় এবং শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ গড়ে ওঠে। নিয়মিত বিদ্যালয়ে শিশুদের পাঠানো অভিভাবকদের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, সন্তানকে বিদ্যালয়ে পাঠানোর আগে তাকে ঠিকমতো খাবার দেওয়া, পোশাক-পরিচ্ছদ ঠিক করে দেওয়া এবং বই-খাতা-পেনসিল-কলম গুছিয়ে দেওয়ার জন্য মায়েদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাতৃসচেতনতার ঘাটতি থাকলে শিক্ষার্থীরা শুধু পড়াশোনাতেই নয়, অন্যান্য ক্ষেত্রেও পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে বলে সতর্কতা প্রকাশ করা হয়।

আরও বলা হয়, শিশুদের পড়ালেখার খোঁজখবর নিয়মিত রাখতে হবে। পাশাপাশি অভিভাবকবৃন্দ শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলে শিশুদের মধ্যে পড়ালেখার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পায়—এমন মতও উঠে আসে। সুতরাং, শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক উন্নয়নে অভিভাবক ও শিক্ষকদের সম্মিলিত প্রয়াস অপরিহার্য বলে বৈঠকে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়।