জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হওয়ার দুই দশক পর এটি প্রথমবারের নির্বাচন।

পাঁচটি ভবনের ৩৯টি কেন্দ্রে ১৭৮টি বুথে সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত ভোট চলবে। সাড়ে ১৬ হাজার ৬৪৫ জন শিক্ষার্থী ২১টি পদে ভোট দিচ্ছেন। চারটি প্যানেল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ ১৫৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একই দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র আবাসিক হল নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী হল সংসদ নির্বাচন হচ্ছে।

ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী অংকিতা সাহা বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার প্রথম ভোট। কাজেই আনন্দ উচ্ছ্বাস থাকবেই। শিক্ষার্থীদের সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে যারাই দায়িত্বে আসবে, তাদের স্বাগত জানাব।’

তিন পৃষ্ঠার ব্যালট পেপারে প্রত্যেক পদের পাশে প্রার্থীর নাম এবং ব্যালট নম্বর উল্লেখ আছে। ভোটাররা প্রার্থীর নামের ডান পাশের চতুর্ভুজাকার ঘরে ক্রস (X) দিয়ে ভোট দেবেন। ওএমআর শিটে ভোট গ্রহণ করা হবে এবং ছয়টি মেশিনে গণনা সম্প্রচার করা হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মোস্তফা হাসান বলেন, ভোটগ্রহণ শেষে ছয়টি ওএমআর মেশিনে ভোট গণণা সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

প্যানেলগুলো হলো ছাত্রদল-ছাত্র অধিকার পরিষদ সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’, ছাত্রশিবির-আপ বাংলাদেশ-ইনকিলাব মঞ্চ সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’, ছাত্রফ্রন্টের সঙ্গে বিভিন্ন সংগঠনের ‘মওলানা ভাষানী ব্রিগেড’ এবং ছাত্রশক্তি সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’। সহ সভাপতি পদে একেকবারের প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন একেএম রাকিব (A-11), রিয়াজুল ইসলাম (A-06), কিশোয়ার আনজুম সাম্য (A-09), গৌরব ভৌমিক। জিএস পদে খাদিজাতুল কুবরা (B-07), আব্দুল আলিম আরিফ (B-05), ফয়সাল মুরাদ (B-04), ইভান তাহসীভ (B-09)। এজিএস পদে বি এম আতিকুর রহমান তানজিল (C-06), মাসুদ রানা (C-02), মো. শাহীন মিয়া (C-03), মো. শামসুল আলম মারুফ (C-01)।

প্রতিটি বিভাগ আলাদা ভোটকেন্দ্র। কিউআর কোড স্ক্যান করে ভোটার আইডি পাওয়া যাবে। নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নারী শিক্ষক সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিযুক্ত। হলের ছাত্রীরা ৩৪টি পদে ভোট দিতে পারবেন। ফলাফল কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ঘোষণা করা হবে।

হল সংসদে ১২৪২ জন আবাসিক শিক্ষার্থী ভোট দিচ্ছেন। ভিপি পদে জান্নাতুল উম্মি তারিন, খাদিজা তুল কুবরা, ফারজানা আকতার রিমি প্রার্থী।

কড়া নিরাপত্তায় ভোট। র‍্যাবের ডগ স্কোয়াড তল্লাশি চালিয়েছে। ক্যাম্পাসে পুলিশ, বিজিবি, মূল ফটকে র‍্যাব, গোয়েন্দা সংস্থা। সিসি ক্যামেরা নজরদারি করছে। প্রক্টর অধ্যাপক মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক বলেন, “ভোট গ্রহণের শুরুতে র‍্যাবের ডগ স্কোয়াড পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করেছে। ক্যাম্পাসের ভেতরে ও বাইরে পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি সহ বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার টিম দায়িত্ব পালন করছেন। আর সাথে সাথে আমাদের প্রক্টোরিয়াল টিম।”

কলেজ থাকাকালে ১৯৫৪-৫৫ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত ১৪ বার নির্বাচন হয়েছে। ২০০৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে। গত ২৮ অক্টোবর জকসু নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। ভোট ৩০ ডিসেম্বরে হওয়ার কথা ছিল কিন্তু বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে স্থগিত হয়ে ৬ জানুয়ারিতে পুনর্নির্ধারিত হয়।