চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণার পর এখন উচ্চমাধ্যমিক স্তরে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছে শিক্ষার্থীরা। পছন্দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকায় অগ্রাধিকার পেতে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে হলি ক্রস কলেজ অন্যতম। সম্প্রতি এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ভর্তি কার্যক্রম সংক্রান্ত নির্দেশনা জানিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

গত মঙ্গলবার হলি ক্রস কর্তৃপক্ষ জানায়, শিক্ষা বোর্ড থেকে ভর্তি নীতিমালা প্রকাশ পাওয়ার পর কলেজে ভর্তি সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইট এবং অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রচার করা হবে।

এদিকে আগামী শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়মই বহাল থাকছে। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। অনলাইনে আবেদন গ্রহণ, তারপর মেধা ও পছন্দক্রম অনুযায়ী আসন বরাদ্দ—এই প্রক্রিয়াই অনুসৃত হবে। তবে এবার পাসের হার উল্লেখযোগ্য হারে কমায় প্রায় ১৩ লাখ ৬১ হাজার আসন শূন্য থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ফলাফল উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানান। তিনি বলেন, ভর্তির ক্ষেত্রে কোনো লটারি বা ভর্তি পরীক্ষা হবে না; বরং প্রচলিত বিধান অনুযায়ী জিপিএ এবং শিক্ষার্থীদের পছন্দক্রমের ভিত্তিতে আসন বরাদ্দ হবে।

বিগত বছরগুলোতেও এসএসসি ফলাফলের ভিত্তিতেই একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে। এ পদ্ধতিতে ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের প্রতিষ্ঠানের পছন্দক্রম উল্লেখ করতে হয়। এরপর ফলাফল, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোটা এবং পছন্দক্রম বিবেচনায় একটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীকে মনোনীত করা হয়। এই নিয়মে মূলত কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোর ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি হয় আলাদা প্রক্রিয়ায়।

ঢাকার নটর ডেম কলেজের মতো কয়েকটি ব্যতিক্রমী প্রতিষ্ঠান ছাড়া দেশের প্রায় সব কলেজ ও মাদ্রাসায় এই পদ্ধতিতেই ভর্তি কার্যক্রম চলে। কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের তত্ত্বাবধানে অনলাইন ভর্তি প্রক্রিয়া পরিচালনায় প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দিচ্ছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)।

সরকার পরিবর্তনের পর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা চালু হতে পারে কি না, তা নিয়ে আলোচনা থাকলেও বোর্ড চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, চলমান নিয়মেই ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তিনি আরও জানান, ২০২৫ সালে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর তুলনায় ২০২৬ সালে আসন খালি থাকার সংখ্যা কিছুটা বাড়তে পারে। দেশের কলেজ ও মাদ্রাসায় একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিযোগ্য আসন প্রায় ২৫ লাখ। গত বছর মোট আসনের ৫৮ দশমিক ৭ শতাংশে ভর্তি হয়েছিল, ফলে ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ আসন খালি ছিল। এবার পাসের হার কমায় খালি আসনের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

১০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন পরীক্ষার্থী ছিল। পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন, অর্থাৎ প্রায় সাত লাখ পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি। সব বোর্ডের উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা ভর্তি হলেও প্রায় ১৩ লাখ ৬১ হাজার আসন খালি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও অন্যান্য বছরেও আসন খালি থাকে, তবে এবার পাসের হার হ্রাস পাওয়ায় সেই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।