মরক্কোর বাদশাহ ষষ্ঠ মোহাম্মদের পাঠানো একটি চিঠি প্রকাশের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছে যে, দেশটির একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের নাম পরিবর্তন করে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে রাখা হয়েছে। গত সপ্তাহে নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাকাউন্টে ট্রাম্প বাদশাহকে এই সম্মানের জন্য ধন্যবাদ জানালেও, মরক্কোর সরকারের পক্ষ থেকে সেদিকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। তবে সম্প্রতি মরক্কোর রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাদশাহ কর্তৃক মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে লেখা চিঠিটি প্রকাশ করেছে। ওই চিঠিতে বাদশাহ জানিয়েছেন, নাম পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্তটি 'আমার উচ্চ সম্মানের ব্যক্তিগত বহিঃপ্রকাশ' হিসেবে নেওয়া হয়েছে।

পূর্বে তিজনিত-দাখলা মহাসড়ক নামে পরিচিত এই পথটি পশ্চিম সাহারা অঞ্চলের ভেতর দিয়ে গেছে। এই অঞ্চলের অধিকাংশই মরক্কোর দখলে এবং দেশটি সেখানকার সার্বভৌমত্ব দাবি করে। তবে এর কিছু অংশ পোলিসারিও ফ্রন্টের নিয়ন্ত্রণে আছে, যা স্থানীয় সাহরাউই জনগণের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করছে। ২০২০ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদকালে যুক্তরাষ্ট্র এই বিতর্কিত অঞ্চলের ওপর মরক্কোর দাবি স্বীকার করে নেয়, যার বিনিময়ে মরক্কো ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সম্মত হয়।

২ জুলাই তারিখের ওই চিঠিতে বাদশাহ মোহাম্মদ মার্কিন প্রেসিডেন্টের 'মরক্কোর সার্বভৌমত্বের ঐতিহাসিক স্বীকৃতি'র প্রশংসা করে বলেন, এটি 'প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে মরক্কোবাসীর স্মৃতিতে চিরকাল অম্লান থাকবে'। বাদশাহ আরও উল্লেখ করেন, 'যদিও আমাদের সম্পর্ক সবসময়ই গভীর বন্ধুত্ব ও অটল আনুগত্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, তবুও আপনার দুটি প্রেসিডেন্ট মেয়াদের সময়ের মতো এতটা শক্তিশালী ও ফলপ্রসূ আর কখনো ছিল না।' তিনি ১,০৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মহাসড়কটিকে 'মরক্কোর উত্তর ও দক্ষিণের সংযোগকারী একটি কৌশলগত অক্ষ' হিসেবে বর্ণনা করেন। মরক্কো পশ্চিম সাহারাকে তাদের 'দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ' বলে অভিহিত করে।

সাবেক স্পেনীয় উপনিবেশ পশ্চিম সাহারা জাতিসংঘের মতে একটি 'অ-স্বশাসিত অঞ্চল' হিসেবে বিবেচিত। পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে এই অঞ্চলটি আফ্রিকার সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতগুলোর একটি হিসেবে লড়াইয়ের সম্মুখীন। জাতিসংঘ ধারাবাহিকভাবে এই বিরোধের সমাধানের জন্য চাপ দিয়ে আসছে এবং একটি গণভোটের প্রস্তাব দিয়েছে, কিন্তু এই অঞ্চলের আদিবাসীরা কখনোই নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের জন্য ভোট দিতে পারেনি। অন্যদিকে আফ্রিকান ইউনিয়ন পশ্চিম সাহারার স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেয়।

সম্প্রতি পর্যন্ত ইউরোপীয় সরকারগুলো এ বিষয়ে কোনো পক্ষ নেওয়া থেকে বিরত ছিল। তবে ব্রিটেন ও স্পেনসহ কিছু দেশ পশ্চিম সাহারাকে স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার কিন্তু স্বাধীনতা অস্বীকার করার মরক্কোর পরিকল্পনাকে সমর্থন দিয়েছে। গত সপ্তায় ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে নামকরণ প্রসঙ্গে ট্রাম্প সড়কটি নির্মাণে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে বলে উল্লেখ করে একটি ভিডিও শেয়ার করেন। তিনি লেখেন, 'আমি এই মহান মহাসড়কের পুরো দৈর্ঘ্য ভ্রমণের অপেক্ষায় আছি, আশা করছি খুব শিগগিরই!'