বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ যুক্তরাষ্ট্র তার অর্থনৈতিক সক্ষমতার সঠিক ব্যবহার করতে পারছে না। মানবাধিকার পরিমাপ উদ্যোগের (Human Rights Measurement Initiative) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশটির কর্মক্ষেত্রে ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার সক্ষমতা মাত্র ২৭%, যা OECD সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের মোট অর্থনৈতিক উৎপাদন ৩২ ট্রিলিয়ন ডলার। স্বাধীনতা ঘোষণার ২৫০ বছর পরেও দেশটি তার নাগরিকদের জন্য স্বাস্থ্য, খাদ্য, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিকারের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের স্কোর ৮০%, যা কানাডা (৯০%), জাপান (৮৮%), অস্ট্রেলিয়া (৯৩%) এবং আইসল্যান্ডের (৯৭%) চেয়ে অনেক পিছিয়ে। গত ২৫ বছরে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য সূচক খুব একটা উন্নত হয়নি; বরং কোভিড-১৯ মহামারির পর এটি আবার হ্রাস পেয়েছে। সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত কর ও ব্যয় প্যাকেজের কারণে ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী ১ কোটি ১৮ লাখ আমেরিকান সরকারি স্বাস্থ্য বীমা সুবিধা হারাতে পারে বলে কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস জানিয়েছে।

খাদ্য নিরাপত্তার দিকেও যুক্তরাষ্ট্র পিছিয়ে আছে। দেশটির খাদ্য অধিকার সূচক ৮১%, যা ৩৭টি OECD দেশের মধ্যে ৩০তম অবস্থান। পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাদ্য পাচ্ছেন না বলে ধারণা করা হচ্ছে প্রায় ১ কোটি ৪৮ লাখ নারী ও ৯১ লাখ পুরুষ। ২০২৫ সালের ট্রাম্পের আইন প্যাকেজের কারণে আরও ৩৪ লাখ মানুষ খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। অ্যারিজোনার মতো কিছু রাজ্যে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির আওতা অর্ধেকের বেশি কমে গেছে।

শিক্ষা অধিকারে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক স্কোর ৭৬%। শিক্ষায় প্রবেশাধিকার ৯০.১% হলেও গুণগত মান মাত্র ৬১.৩%, যার ফলে দেশটি ৩৮টি OECD দেশের মধ্যে ২০তম অবস্থানে রয়েছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো কর্ম ও মজুরির অধিকার। বর্তমান নীতি পরিবর্তন করে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি করা গেলে প্রায় ৪ কোটি ৬০ লাখ মানুষ ন্যায্য মজুরি পেতে পারেন এবং ৫০ লাখ মানুষ চরম দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেতে পারেন। কিন্তু বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র তার সম্পদের মাত্র ২৭% কর্মীদের মজুরি হিসেবে দিচ্ছে, যা OECD-তে সবচেয়ে খারাপ। গত ২৫ বছরে এই সূচক ৬২% থেকে কমে ৫১% এ দাঁড়িয়েছে, যা অর্থনৈতিক বৈষম্যের বৃদ্ধি নির্দেশ করে।

গবেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আরও ভালো করা সম্ভব, কিন্তু দেশটির নীতিগত সিদ্ধান্ত ও সম্পদের অসম বণ্টনের কারণেই এই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।