ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ১২ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে স্থানীয় জনতা। এর প্রতিবাদে কলকাতায় বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার ওই মিছিল আয়োজনের অনুমতি দিয়েছিলেন কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশনা ছিল—মিছিলটি সড়কের এক পাশ দিয়ে যাবে এবং অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা এক হাজারের বেশি হবে না। সেই অনুযায়ী বালিগঞ্জ ফাঁড়ি এলাকায় তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা জড়ো হন।

তবে মিছিল শুরুর আগেই বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার পথজুড়ে 'জয় শ্রীরাম' লেখা ব্যানার টাঙিয়ে দেন বিজেপির সমর্থকেরা। পাশাপাশি মাইকে ধর্মীয় গান বাজানো হয় এবং তৃণমূল কর্মীদের উদ্দেশে 'চোর চোর' স্লোগান দেওয়া হয়। মিছিল শুরু হলে বিজেপির নেতা-কর্মীরা রাস্তায় বাধা সৃষ্টি করেন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ব্যাপক হাতাহাতি শুরু হয়। তৃণমূলের দাবি, বিজেপির হামলায় তাদের কমপক্ষে ১৫ জন কর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মিছিলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরাসরি উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় তিনি যোগ দেননি। তবে শুরুতে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। অন্যদিকে, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর অনুসারীরা বাধা দিলে তৃণমূল কর্মীরা 'জয় বাংলা' স্লোগান দিয়ে পাল্টা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন, ফলে পুরো এলাকায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার সম্পূর্ণ পতন ঘটেছে এবং পুলিশ দলদাসে পরিণত হয়েছে। পাল্টা জবাবে বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য দাবি করেন, তৃণমূলকে বাংলার মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং কোনো অপরাধী আর রক্ষা পাবে না।

এদিকে, বারুইপুরের ঘটনার তদন্তে অগ্রগতি এসেছে। পুলিশের গুলিতে প্রধান অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল নিহত হওয়ার পর 'কবীর মোল্লা' নামে আরেক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে মোট চারজনকে আটক করা হলো। পাশাপাশি ঘটনার পর তাণ্ডব, ট্রেন ও সড়ক অবরোধ এবং সরকারি সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগে আরও ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।