প্রায় সাড়ে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে দর্শকদের ভয় দেখিয়ে আসছে 'ইভিল ডেড' ফ্র্যাঞ্চাইজি। এই সপ্তাহেই মুক্তি পেয়েছে এর সর্বশেষ কিস্তি 'ইভিল ডেড বার্ন', যার পরিচালনায় ফরাসি নির্মাতা সেবাস্তিয়ান ভানিচেক। ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র অ্যালিস, যিনি স্বামী উইলের মৃত্যুর পর শোক কাটাতে তার শ্বশুরবাড়ির পুরনো ও নিভৃত এক বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখানেই নেক্রোনোমিকন (বুক অফ দ্য ডেড)-এর মাধ্যমে এক দানবিক শক্তি জেগে ওঠে এবং পরিবারের সদস্যদের ধীরে ধীরে ডেডাইটে পরিণত করতে থাকে। আর রেটেড এই ছবিতে অ্যালিস চরিত্রে অভিনয় করেছেন সউহেইলা ইয়াকুব, আরও রয়েছেন হান্টার ডুন, লুসিয়ান বিউকানান, তান্ডি রাইট, ইরল শ্যান্ড ও মউড ডেভি। গতকাল প্রিভিউ প্রদর্শনীর পর আজ থেকে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে ছবিটি।
প্রযোজক স্যাম রাইমি ও রব টাপার্ট ফ্র্যাঞ্চাইজিটিকে সতেজ রাখতে এক ভিন্ন কৌশল গ্রহণ করেছেন। তারা প্রতিটি নতুন ছবির জন্য পরিচিত কোনো নামের বদলে তরুণ ও উদীয়মান পরিচালকদের বেছে নিচ্ছেন। টাপার্টের মতে, এতে করে প্রতিটি ছবিতে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আসে এবং নির্মাতাদের মধ্যে একটি সুস্থ প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়, যেখানে প্রত্যেকে আগের পরিচালকের চেয়ে ভালো কিছু দিতে চান। ২০১৩ সালে ফেদে আলভারেজ 'ইভিল ডেড'-এর পুনর্নির্মাণ করেন, এরপর ২০২৩ সালে লি ক্রোনিন নির্মাণ করেন 'ইভিল ডেড রাইজ'। এখন ভানিচেক দায়িত্ব নিয়েছেন 'ইভিল ডেড বার্ন'-এর মাধ্যমে। টাপার্ট জানান, নতুন পরিচালকদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো একটি খারাপ ছবি তৈরি না করা। এই দায়িত্ববোধই তাদের কঠোর পরিশ্রমে উদ্বুদ্ধ করে, কারণ তাদের ক্যারিয়ারের জন্যও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রাইমি ও টাপার্ট নিজেরাও অল্প বয়সে ফ্র্যাঞ্চাইজির যাত্রা শুরু করেছিলেন। ১৯৭৮ সালে তারা 'উইদিন দ্য উডস' নামে একটি শর্ট ফিল্ম তৈরি করেন, যেখানে ব্রুস ক্যাম্পবেল অভিনয় করেন। এই শর্ট থেকেই ১৯৮১ সালে 'দ্য ইভিল ডেড', ১৯৮৭ সালে 'ইভিল ডেড টু' এবং ১৯৯২ সালে 'আর্মি অফ ডার্কনেস' নির্মিত হয়। ব্রুস ক্যাম্পবেলের চরিত্র অ্যাশ উইলিয়ামস জনপ্রিয় সংস্কৃতির একটি আইকনে পরিণত হয়। পরবর্তীতে ২০০৪ সালে রাইমি ও টাপার্ট তাদের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ঘোস্ট হাউজ পিকচার্স গঠন করেন, যা 'দ্য গ্রাজ', 'থার্টি ডেজ অফ নাইট' ও 'ড্র্যাগ মি টু হেল'-এর মতো সফল ছবি তৈরি করে। ২০১০ সালের দিকে তারা 'ইভিল ডেড' সিরিজ পুনরায় চালু করার চিন্তা করেন এবং টাপার্টের উদ্যোগেই ফেদে আলভারেজকে নিয়ে পুনর্নির্মাণের পথ তৈরি হয়।
ভানিচেককে নির্বাচনের প্রক্রিয়াও ছিল একই রকম। টাপার্ট ও ঘোস্ট হাউজের নির্বাহী প্রযোজক রোমেল অ্যাডাম ও হোসে কানিয়াস রাইমিকে ভানিচেকের ২০২৩ সালের হরর থ্রিলার 'ইনফেস্টেড' দেখান। রাইমি জানান, ছবির নির্মাণশৈলী, নির্ভুলতা ও বুদ্ধিদীপ্ততা তাকে মুগ্ধ করে। যদিও তিনি জনসমাগমে ছবিটি দেখেননি, তবুও তিনি বুঝতে পারেন এটি দর্শকপ্রিয় হবে। সাক্ষাৎকারের আগেই তাদের মনস্থির হয়ে যায়; ছবিটিই পরিচালকের যোগ্যতা প্রমাণ করে দেয়।
ভানিচেক ফ্র্যাঞ্চাইজির ঐতিহ্য বজায় রেখে কিছু বিষয়ে দর্শকের প্রত্যাশাকে ভেঙে দিয়েছেন। টাপার্ট স্বীকার করেন, এ ধরনের পরিবর্তন কিছুটা অনিশ্চয়তার সৃষ্টি করে, তবে শেষ পর্যন্ত তা সন্তোষজনক। ক্যাননের মধ্যে থেকেই রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা তৈরি করাই এই ফ্র্যাঞ্চাইজির মূল ভিত্তি। রাইমি ও টাপার্ট নিশ্চিত করেন যেন বিচ্যুতি খুব বেশি না হয়। তবে তারা পরিচালকদের পুরনো নিয়ম ভাঙার অনুমতিও দেন, কারণ সব নিয়ম চিরস্থায়ী নয়।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো 'ইভিল ডেড বার্ন' একটি বৃহত্তর গল্পের অংশ। টাপার্ট জানান, ভানিচেককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল ছবিটিকে 'ইভিল ডেড রাইজ'-এর সাথে কিছুটা সংযুক্ত করতে এবং বুক অফ দ্য ডেডের গল্প এগিয়ে নিয়ে যেতে। পরিচালকরা সাধারণত পূর্ববর্তী বা পরবর্তী কিস্তির জন্য কাজ করতে চান না, কিন্তু রাইমি ও টাপার্ট মনে করেন এই ফ্র্যাঞ্চাইজি কেবল বিচ্ছিন্ন ছবির সমষ্টি হতে পারে না। দর্শকরা সংযোগ খুঁজতে চান, তাই প্রতিটি ছবি যেন একটি জিগস পাজলের অংশ। ছবিটির ক্রেডিট দৃশ্য শেষ পর্যন্ত দেখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, সেখানেই সম্পূর্ণ চিত্রটি ফুটে উঠবে।
এভাবে প্রায় পাঁচ দশকের পুরনো ফ্র্যাঞ্চাইজিটি তরুণ নির্মাতাদের হাতে নিয়মিত নতুন রূপ নিচ্ছে, যা হরর সিনেমাপ্রেমীদের জন্য নিয়ে এসেছে আরেকটি রোমাঞ্চকর সংযোজন। রাইমি জানান, ভানিচেকের মধ্যে সৃজনশীলতা, ইতিবাচক মনোভাব ও দর্শকদের রোমাঞ্চিত করার আগ্রহ ছিল, যা তাদের প্রয়োজন ছিল। এই কৌশল অব্যাহত রাখলে 'ইভিল ডেড' ভবিষ্যতেও নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




