বাজার থেকে কেনা তাজা কই মাছ কাটতে বসে অনেকেই বিস্মিত হন, থলে থেকে বেরিয়ে আসার পরও মাছটি জীবিত থাকে। ‘কই মাছের প্রাণ’ প্রবাদটি যেন সত্যি, সহজে মরে না এই প্রাণী। কিন্তু এমন দীর্ঘজীবী হওয়ার নেপথ্যে কী বিজ্ঞান লুকিয়ে আছে? সাধারণত অন্য কোনো মাছ পানি থেকে তোলার পর দ্রুত মারা যায়, কিন্তু কই মাছের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি ভিন্ন।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, অন্যান্য মাছের মৃত্যুর কারণ বুঝতে হলে ফুলকার কার্যপ্রণালী বোঝা জরুরি। ফুলকা দিয়ে মাছ পানিতে মিশে থাকা অক্সিজেন রক্তে টেনে নেয়। কিন্তু ডাঙায় তোলামাত্রই ফুলকার সূক্ষ্ম তন্তুগুলো দ্রুত শুকিয়ে যায় এবং পরস্পরের সঙ্গে আটকে লেপ্টে যায়। এর ফলে বাতাসে প্রচুর অক্সিজেন থাকলেও তা আর রক্তে প্রবেশ করতে পারে না, এবং মাছটি শ্বাসরোধ হয়ে মারা যায়।
প্রকৃতির বিচিত্র নিয়মে কই মাছ পেয়েছে ভিন্ন এক সমাধান। এর ফুলকার উপরে মাথার দুই পাশে রয়েছে একটি বিশেষ অতিরিক্ত শ্বাসতন্ত্র। বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় একে ‘ল্যাবিরিন্থ অঙ্গ’ বলা হয়। প্যাঁচানো গোলাপ ফুলের মতো দেখতে এই অঙ্গটি প্রচুর রক্তনালীপূর্ণ অসংখ্য ভাঁজে গঠিত। চমকপ্রদ বিষয় হলো, এই অঙ্গটি প্রায় মানুষের ফুসফুসের ন্যায় কার্যক্রম চালায়। পানি থেকে উঠিয়ে আনা হলে বা জলাশয়ের অক্সিজেন কমে গেলে, কই মাছ ফুলকার পাশাপাশি এই ল্যাবিরিন্থ অঙ্গের ব্যবহার শুরু করে। মুখ দিয়ে সরাসরি বাতাস টেনে সেটি এই বিশেষ অঙ্গে পাঠায়, যেখানে থাকা রক্তনালীগুলো অক্সিজেন গ্রহণ করে দেহে সরবরাহ করে। এভাবেই শুকনো থলে বা রান্নাঘরের মেঝেতে ফেলা থাকা অবস্থাতেও সে বহুক্ষণ টিকে থাকতে পারে।
অবশ্য এই বিশেষ ক্ষমতার একটি শর্তও আছে। ল্যাবিরিন্থ অঙ্গের সক্রিয় থাকার জন্য আর্দ্রতা অপরিহার্য। চারপাশ খুব শুষ্ক হয়ে গেলে বা মাছের দেহ সম্পূর্ণ নীরস হলে এই অঙ্গও অকার্যকর হয়ে পড়ে। কাদামাটি, স্যাঁতস্যাতে আবহাওয়া বা ভেজা পলিথিনই তাদের বেঁচে থাকার জন্য বেশি অনুকূল।
শুধু তাই নয়, কই মাছের আরেকটি অনন্য গুণাবলী আছে— ডাঙায় হাঁটার সক্ষমতা। গরমের মৌসুমে জলাশয় শুকিয়ে এলে, বৃষ্টির দিনে এরা কানকো ও বুকের পাখনা প্রয়োগ করে সাপের মতো বক্রগতিতে ভূমির ওপর দিয়ে এক পুকুর থেকে অন্য পুকুরে সাঁতরানোর বদলে হেঁটেই চলে যেতে পারে। সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রকৃতি ও সায়েন্স ডিরেক্ট-এর প্রতিবেদন এ সব তথ্যই দিচ্ছে।




