কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এক নারী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও করুণ মৃত্যুর ঘটনায় নতুন মোড় এসেছে। মৃত চিকিৎসকের মরদেহ তড়িঘড়ি করে সৎকারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সোমনাথ দেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরুর একটি গেস্টহাউস থেকে পলাতক অবস্থায় তাঁকে আটক করা হয়।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন নিহতের বাবা-মা অভিযোগ করেন যে, তাঁদের অগোচরেই মরদেহটি পানিহাটি শ্মশানে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক দাহ করা হয়েছে। রাজ্যের শাসনকাঠামো পরিবর্তনের পর এই অভিযোগ সামনে আসে। নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুরো হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেন, যার ফলে বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট নতুন করে মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করে।
এই তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ১৩ আগস্ট সাবেক তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ এবং সাবেক পৌর কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় গ্রেপ্তার হন। এরপর থেকেই সোমনাথ দে আত্মগোপন করে ছিলেন। অবশেষে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতার খড়দা থানায় আনা হয়। সেখান থেকে তাঁকে বারাকপুরের মহকুমা বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে। তবে আজ সকালে খড়দা থানা থেকে আদালতে যাওয়ার সময় স্থানীয় বাসিন্দারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। উত্তেজিত জনতা সাবেক এই পৌর চেয়ারম্যানের দিকে ডিম এবং ইটপাটকেল ছুড়ে মারেন।
তদন্তকারী পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নির্মল ঘোষ এবং তৃণমূলের আরও দুই নেতা মিলে শাস্ত্রীয় নিয়মকানুন উপেক্ষা করে এবং নিহতের পরিবারকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ না দিয়েই 'ভিআইপি' মর্যাদা দিয়ে দ্রুত সৎকার সম্পন্ন করান। এমনকি দ্রুত দাহ করার জন্য অস্ত্রের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট রাতে কর্তব্যরত অবস্থায় ওই নারী চিকিৎসক প্রথমে ধর্ষণের শিকার হন এবং পরবর্তীতে তাঁকে হত্যা করা হয়।




