নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর দুই আইনজীবী, জিয়াউল ইসলাম ও মাহবুবুর রহমানকে কারাফট জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলামের আদালত। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে শুনানি শেষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে এই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে আসা সংস্কৃতিকর্মী আতিকুল ইসলামের একদিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। আতিকুল ইসলাম হলেন আইনজীবী জিয়াউল ইসলামের ছোট ভাই। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এই তিন অভিযুক্তের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করলেও আদালত দুই আইনজীবীর ক্ষেত্রে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

গ্রেপ্তার হওয়া জিয়াউল ইসলাম নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক জোট এবং উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সাবেক সভাপতি। তাঁদের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পুলিশি অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁরা সরকারবিরোধী মিছিল এবং নাশকতার চেষ্টার সাথে জড়িত। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী আওলাদ হোসেন শুনানিতে দাবি করেন, মামলার মূল এজাহারে জিয়াউল ইসলাম এবং মাহবুবুর রহমানের নাম উল্লেখ নেই। এজাহারে থাকা ১৬ জন আসামিকে গ্রেপ্তারের পর পলাতক বাকিদের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান। তাই এই দুই আইনজীবীর সম্পৃক্ততা নেই উল্লেখ করে রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করার অনুরোধ জানানো হয়। শেষ পর্যন্ত আদালত তাঁদের চার কার্যদিবসের মধ্যে কারাফট জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন এবং আতিকুল ইসলামকে একদিনের রিমান্ডে পাঠন। রিমান্ড শেষে জামিনের আবেদন জানানো হবে বলে জানান তাঁদের আইনজীবী।

আদালতে হাজির হওয়ার পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে জিয়াউল ইসলাম তাঁর গ্রেপ্তারের তীব্র প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, বিএনপি বা আওয়ামী লীগ—সব দলের নেতা-কর্মীদের আইনি সহায়তা দেওয়া আইনজীবীর পেশাগত দায়িত্ব, এটি কোনো অপরাধ নয়। আইনজীবীদের কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল থাকে না, তারা সবার মামলা লড়েন। হাতকড়া পরিয়ে আদালতে হাজির করার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

গত মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে আল্লামা ইকবাল রোডে অবস্থিত বাসভবন থেকে পুলিশ জিয়াউল ইসলাম, আতিকুল ইসলাম ও মাহবুবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রিকশাচালক তুহিন হত্যা মামলায় নারায়ণগঞ্জের আদালতে হাজির হয়ে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় জামিন পান জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এবং সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। আদালত থেকে বের হয়ে তিনি 'জয় বাংলা' স্লোগান দেন এবং মন্তব্য করেন যে, জয় বাংলাকে দাবিয়ে রাখা যাবে না। সেই সময় আইভীর সাথে নথিপত্র হাতে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী জিয়াউল ইসলাম ও মাহবুবুর রহমান, তবে তাঁদের স্লোগান দিতে দেখা যায়নি।