অবসরের ছুটিতে থাকা সহকারী পুলিশ সুপার মো. ফখরুদ্দীন ভূঞা এবং তাঁর স্ত্রী জাহানারা খানমের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত বুধবার দুদকের ময়মনসিংহ জেলা সমন্বিত কার্যালয়ে এই মামলা দুটি রুজু করা হয়। দুদকের উপসহকারী পরিচালক ইব্রাহিম খলিল বাদী হয়ে মামলাগুলো করেন এবং বৃহস্পতিবার দুপুরে সংশ্লিষ্ট নথি ময়মনসিংহ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। বর্তমানে অভিযুক্ত স্বামী-স্ত্রী উভয়েই পলাতক রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন ইব্রাহিম খলিল।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, প্রথম মামলাটি দায়ের করা হয়েছে ফখরুদ্দীন ভূঞা ও তাঁর স্ত্রী জাহানারা খানমের বিরুদ্ধে। অভিযোগ করা হয়েছে যে, পুলিশ কর্মকর্তা স্বামীর সহায়তা নিয়ে জাহানারা খানম ৮৩ লাখ ২২ হাজার ৩৭১ টাকার অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন করে তা ভোগদখল করছেন। সরকারি পদে কর্মরত থাকা অবস্থায় স্ত্রীকে এই অবৈধ সম্পদ গড়তে সাহায্য করার অপরাধে ফখরুদ্দীন ভূঞাকে এই মামলায় সহযোগী আসামি করা হয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী এই দম্পতির স্থায়ী ঠিকানা ময়মনসিংহের সাউথ বাউন্ডারী রোডে হলেও তারা বর্তমানে চরপাড়া এলাকায় বসবাস করছেন। উল্লেখ্য, ফখরুদ্দীন ভূঞা গত বছরের ডিসেম্বর মাসে অবসরোত্তর ছুটিতে যান।
অন্যদিকে, দ্বিতীয় মামলায় এককভাবে অভিযুক্ত করা হয়েছে মো. ফখরুদ্দীন ভূঞাকে। দুদকের অভিযোগ, তিনি তাঁর সম্পদ বিবরণীতে ভুল ও ভিত্তিহীন তথ্য দিয়েছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ সম্পদের কথা গোপন করেছেন। দুদকের তদন্ত ও অনুসন্ধান অনুযায়ী, তাঁর নামে মোট ১ কোটি ৫৫ লাখ ৯৫ হাজার ৯১১ টাকার সম্পদ পাওয়া গেছে। তবে তাঁর বৈধ আয় এবং পারিবারিক খরচ হিসাব করার পর দেখা যায়, ৯২ লাখ ১১ হাজার ৯৫৪ টাকার সম্পদ তাঁর জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে একেবারেই অসংগতিপূর্ণ।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের শুরুর দিকে এই দম্পতিকে তাঁদের সম্পদ বিবরণী জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়, যা তারা গত ১০ মার্চ দাখিল করেন। পরবর্তীতে রেকর্ডপত্র যাচাই-বাছাই এবং বিস্তারিত অনুসন্ধানের পর অবৈধ সম্পদ ও তথ্য গোপনের প্রমাণ পাওয়ার পর কমিশনের অনুমোদন নিয়ে মামলাগুলো করা হয়। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, তদন্ত চলাকালীন অন্য কারো সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁকেও আইনের আওতায় আনা হবে।




