দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতীয় বিনোদন জগতের তারকাদের ব্যক্তিগত কথা, প্রেম-বিচ্ছেদ ও নানা বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকা জনপ্রিয় সেলিব্রিটি চ্যাট শো ‘কফি উইথ করণ’ শেষ হতে চলেছে। অনুষ্ঠানটির নির্মাতা ও সঞ্চালক করণ জোহর আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন যে, নবম মৌসুমটিই হবে এই শো-এর শেষ অধ্যায়। আগামী ১৪ অক্টোবর থেকে জিওহটস্টারে এর চূড়ান্ত মৌসুমের সম্প্রচার শুরু হবে।

২০০৪ সালের ১৯ নভেম্বর স্টার ওয়ার্ল্ড চ্যানেলে প্রথম প্রচারিত এই অনুষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয়েছিল বলিউডের জনপ্রিয় জুটি শাহরুখ খান ও কাজলের উপস্থিতিতে। সেই থেকে এখন পর্যন্ত আটটি মৌসুমে মোট ১৬১টি পর্বের মাধ্যমে ভারতীয় সিনেমার প্রায় সব প্রজন্মের তারকা করণের বিখ্যাত ‘কফি কাউচে’ বসেছেন। অমিতাভ বচ্চন, আমির খান, সালমান খান, দীপিকা পাড়ুকোন থেকে শুরু করে আলিয়া ভাট—কার্যত মূলধারার সব বড় তারকা এই শো-তে অতিথি হিসেবে এসেছেন। বিশেষ করে কারিনা কাপুর ও কাজল সবচেয়ে বেশিবার এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছেন।

সাধারণ সাক্ষাৎকারের বাইরে তারকাদের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ, সহকর্মীদের সম্পর্কে মতামত এবং দ্রুতগতির ‘র‍্যাপিড ফায়ার’ পর্বের কারণে অনুষ্ঠানটি দর্শকদের কাছে আলাদা জনপ্রিয়তা পায়। তবে বিনোদনের পাশাপাশি বিতর্কও ছিল এই শো-এর অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিশেষ করে ২০১৯ সালে ষষ্ঠ মৌসুমে ক্রিকেটার হার্দিক পান্ডিয়া ও লোকেশ রাহুলের নারীদের নিয়ে করা মন্তব্য তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়, যার ফলে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড তাদের সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করে অস্ট্রেলিয়া সফর থেকে ফিরিয়ে আনে। এছাড়া কঙ্গনা রনৌতের সঙ্গে করণের কথোপকথন এবং বলিউডে স্বজনপ্রীতি নিয়ে আলোচনা এই শো-এর অন্যতম আলোচিত দিক হয়ে ছিল।

টেলিভিশন থেকে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তরের পর ২০২২ সালে ডিজনি+ হটস্টারের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি নতুন রূপ পায়। ওটিটি সংস্করণে পর্বগুলো দীর্ঘ হয় এবং তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আরও খোলামেলা আলোচনা শুরু হয়। ২০২৩ সালের অষ্টম মৌসুমে রণবীর সিং ও দীপিকা পাড়ুকোণের যৌথ সাক্ষাৎকারটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

এত দীর্ঘ পথচলার পর কেন এই শো বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিলেন করণ জোহর? তাঁর মতে, এই অনুষ্ঠানটি তাঁর পরিচয়ের এক বড় অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং তিনি বিশ্বাস করতে পারছেন না যে এটি নবম মৌসুমে পৌঁছেছে। তবে জীবনের পরবর্তী দশকে তিনি তাঁর সৃজনশীলতাকে নতুনভাবে কাজে লাগাতে চান। বিশেষ করে আরও বেশি সিনেমা পরিচালনা এবং নতুন নতুন গল্প বলার তাড়না থেকেই তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর এই সিদ্ধান্ত জনপ্রিয়তার অভাবের কারণে নয়, বরং চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারের প্রতি তাঁর গভীর আকর্ষণেরই প্রতিফলন। ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ এবং ‘রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি’র মতো সিনেমার পরিচালক হিসেবে তিনি এখন নতুন দিগন্তের দিকে তাকিয়ে আছেন। আগামী ১৪ অক্টোবর শুরু হতে যাওয়া শেষ মৌসুমের অতিথি তালিকা এখনো প্রকাশিত হয়নি, তবে কারা শেষবারের মতো সেই বিখ্যাত সোফায় বসবেন তা নিয়ে ভক্তদের মধ্যে তীব্র কৌতুহল তৈরি হয়েছে।